মানবিকতায় অনন্য বিলাইছড়ি জোন; পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবিচল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্টঃ

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ী জনপদে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি জোনের আওতাধীন ফারুয়া এলাকায় ছায়াসা প্রু মারমা নামে এক অত্যন্ত অসহায় ও দুস্থ বৃদ্ধা মহিলার জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই পেয়ে ওই বৃদ্ধা ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

পার্বত্য অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। বিলাইছড়ি জোনের এই মানবিক উদ্যোগটি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করা ছায়াসা প্রু মারমার কষ্টের কথা জানতে পেরে সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘরটি সংস্কারের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলে।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র হলো ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা’। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সকল সেনা জোন শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক বিশাল ভূমিকা পালন করছে। পাহাড়ের গহীন অরণ্যে যেখানে সরকারি ও বেসরকারি অনেক সেবা পৌঁছানো দুষ্কর, সেখানে সেনাবাহিনী নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে উন্নয়ন পৌঁছে দিচ্ছে।

 

বিলাইছড়ি জোনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি এলাকায় সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করে যাচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ের কোমলমতি শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে স্কুল নির্মাণ, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগের ফলে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।

 

পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ব্যক্তিগত সংকটে অভাবী মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই ঘর মেরামত কার্যক্রম সেনাবাহিনীর সেই বিশাল কর্মযজ্ঞেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সেনাবাহিনীর এসব মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও পাহাড়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং এই জনপদকে সমৃদ্ধ করতে তাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন

এ সম্পর্কিত পোস্ট:

বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ: পাঁচোড়ি পাড়ায় শীতবস্ত্র বিতরণ 

ডেস্ক রিপোর্টঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কষ্ট লাঘবে নিরলসভাবে...

পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও সুস্থ ধারার বিকাশে বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগ: ‘সেমাল কার্বারী মেমোরিয়াল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’ এর জমকালো উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্টঃ   পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে সমুন্নত রাখতে এবং দুর্গম পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী হওয়া থেকে...

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন।

ডেস্ক রিপোর্টঃ   গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. হতে সেনাবাহিনী কর্তৃক সশস্ত্র দলের আধিপত্য নির্মূলে এবং দুর্গম এলাকার জনসাধারণকে সাহায্য...

পাহাড়ে অশান্তি, চাকমা রাণী ইয়েনের ভূমিকা নিয়ে যত অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্টঃ   দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা আর নৈরাজ্যের পেছনে চাকমা রাণী ইয়েন ইয়েনের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ...