নতুন ঠিকানায় বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা দম্পতি: সেনাবাহিনীর সহায়তায় পেলেন স্বপ্নের ঘর।

- Advertisement -

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

নতুন ঠিকানায় বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা দম্পতি: সেনাবাহিনীর সহায়তায় পেলেন স্বপ্নের ঘর।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের বেলতলী পাড়ার ৭৩ বছর বয়সী বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও ৭০ বছর বয়সী প্রভাতী বালা ত্রিপুরার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সেনাবাহিনীর সহায়তায় তারা পেলেন একটি নতুন ঘর। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দুপুরে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের পক্ষে খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন।

 

গত ২৩ জানুয়ারি ‘দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র’ পত্রিকায় “অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির জীবন সংগ্রাম: সরকারি সহায়তার অভাবে ঝুপড়ি ঘরে কাটছে শেষ বয়স” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মো: আমান হাসানের। তিনি দ্রুত বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা দম্পতির জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন এবং তাদের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

 

রিজিয়ন কমান্ডারের নির্দেশে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের নিজস্ব অর্থায়নে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই জরাজীর্ণ ঝুপড়ির পরিবর্তে তৈরি হয় পাকা ভিত্তির ওপর রঙিন ছাদের নতুন ঘর।

 

নতুন ঘর পেয়ে বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আগে তো আমার ঘর ছিল না, এখন তো সেনাবাহিনী আমাদের ঘর দিয়েছে। এখন সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবো।”

 

তার স্ত্রী প্রভাতী ত্রিপুরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আগে ভাঙা ঘরে থাকতাম, এখন নতুন ঘর পেয়ে ভালো লাগছে।”

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় সংবাদকর্মীদের প্রচারিত খবরের সূত্র ধরে রিজিয়ন কমান্ডার মহোদয় উদ্যোগ নেন। আমরা সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছি এবং থাকব। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতায় কেউ গৃহহীন থাকবে না, কেউ না খেয়ে থাকবে না—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপ্লব ত্রিপুরা রিংকু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন। সংবাদকর্মীদের প্রচারের ফলে বিষয়টি রিজিয়ন কমান্ডারের নজরে আসে এবং আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী তারা নতুন ঘর পেলেন। আমরা সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই এবং চাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক।”

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা সরনাথ ত্রিপুরাও সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “সংবাদমাধ্যম ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অসহায় দম্পতি ঘর পেয়েছেন। আমরা এ ধরনের ইতিবাচক সংবাদ প্রচারকে স্বাগত জানাই।”

 

বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও প্রভাতী ত্রিপুরার জীবনে এক নতুন সূচনা হয়েছে সেনাবাহিনীর সহায়তায়। এটি প্রমাণ করে, সংবাদ প্রচার শুধু তথ্য সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ারও বটে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন

এ সম্পর্কিত পোস্ট:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএ এর সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ   গতকাল দিবাগত রাত ১টা হতে আজ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবান জেলার...

সু-কৌশলের রাজনীতি: জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি নেতৃত্ব শূন্যতায়, ভবিষ্যৎ সংসদে বাড়বে বাঙালি বিরোধী ষড়যন্ত্র।

ডেস্ক রিপোর্টঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন জেলা নিয়ে গঠিত এই পাহাড়ি জনপদ শুধু প্রাকৃতিক...

ভোট নিরাপত্তায় রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সভা

ডেস্ক রিপোর্টঃ   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাঙামাটিতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ও...

পাহাড়ে ভোটের রাজনীতি: বাঙালি অনৈক্য কি আঞ্চলিক দলের আধিপত্যের পথ প্রশস্ত করছে?

ডেস্ক রিপোর্টঃ   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সমগ্র দেশে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ, হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণ তুঙ্গে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের...