স্বয় সম্বলহীন স্বজন হারা প্রতিবন্ধি রাকিবের পাশে সেনাবাহিনী

- Advertisement -

মো.গোলামুর রহমান,লংগদু(রাঙ্গামাটি)

 

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি সম্প্রীতি বজায় রেখে, পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লংগদু জোন। এসব এলাকার জনসাধারণের জান মালের নিরাপত্তার সাথে সাথে অস্বচ্ছল পরিবার গুলোকে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে দিতে দৈনন্দিন নানা উপকরণ দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

 

এরই ধারাবাহিকতায় স্বয় সম্বলহীন স্বজন হারা প্রতিবন্ধি, যার ভিটা মাটি সহ নাই কোন বাসস্থান। যিনি তার এক মাত্র মা কে নিয়ে বর্তমানে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা গাঁথাছড়া মিস্তিরি টিলা দুর সম্পর্কীয় নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন।ছেলেটির নাম রাকিব। তার এমন করুণ কাহিনী শুনে স্থীর থাকেনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল হিমেল মিয়া পিএসসি।

 

রাকিবকে স্থায়ী ভাবে স্বাবলম্বী করতে, রাকিবের চাহিদা অনুযায়ী তাকে একটি অটো রিকশা দিয়ে পাশে দাড়িয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লংগদু জোন।

 

রাকিব জানায়, ছোট কালে মা কে ছেড়ে চলে যায় বাবা, মা মানুষের বাসায় কাজ করে বড় করে তুলেন একমাত্র ছেলেকে। দশ বছর বয়স না হতেই কাজ শুরু করেন সে।

 

বাবা ছেড়ে দেওয়ার পর মা তাকে নিয়ে ঢাকা শহর চলে যায়, সেখানে বাসের হেলপার হয়ে মায়ের দুঃখ মোচনের চেষ্টায় কাজ শুরু করেন রাকিব। বয়স ১৯ হলে নিজেই ড্রাইভার হয়ে লোকাল বাস চালানো শুরু করেন।

 

এরি মধ্যে রাকিব বিয়ে পীড়িতে বসেন একজন গার্মেন্টসে চাকুরীজীবি রমনীর সাথে। সংসার জীবনের দুবছর হতেই তাদের কোল আলোকিত করে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সুন্দর সুখময় জীবন চলছিলো।

 

বিপত্তি ঘটে তখনি,একদিন হঠাৎ রাকিবের গাড়িকে দ্রুত গতিতে আসা অন্য একটি বাস আক্রমণ করে,যার ফলে তছনছ হয় রাকিবের ভাড়ায় চালিত বাসটি। সাথে রাকিবের একটি পা জীবনের জন্য অচল হয়ে যায়। অন্যটি ইন্জুরি হয়ে প্রতিবন্ধি। স্বয় সম্বলহীন স্বজন হারা রাকিবের মা দিশে হারা হয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে ছেলের চিকিৎসা করায়। এরি মধ্যে ছেলের বউ কন্যা সন্তানকে নিয়ে উধাও। সর্বহারা হয়ে দুর সম্পর্কীয় নানা বাড়িতে উঠেন রাকিব।

 

রাকিব সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি মা কে নিয়ে কোথায় যাবো কি করবো,কোথায় থাকবো কোন ঠিকানা নাই। আল্লাহ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আমাকে বাঁচার একটি রাস্তা করে দিয়েছেন। না হয় মানুষর কাছে হাত পেতে আমার জীবন চালাতে হতো। সেনাবাহিনীর প্রতি আমি ঋণী। যেই স্যার আমার জন্য এো কিছু করেছে আল্লাহ যেনো স্যারকে বড় করে।

 

রাকিবের মা রাহিমা বেগম বলেন, দুনিয়াতে আমার ছেলে আর আমি ছাড়া আমাদের কেউ নাই। ছেলেটা যখন সুস্থ ছিলো তখন কোনরকম দিন পার করেছি। এক্সিডেন্ট এর পর মানুষের কাছে হাত পেতে তার চিকিৎসা করাই। সর্বহারা হয়ে গাঁথাছড়া আসি। এখানে এসে সেনাবাহিনীর এতো বড় উপহার পাবো আমরা কল্পনা করিনি। যেখানে আমাদের মা ছেলের ভবিষ্যত অন্ধকার সেখানে আল্লাহর রহমতে সেনাবাহিনী আমাদের আলো করে দিয়েছে। আমরা এই ঋণ কখনো শেষ করতে পারবোনা। সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা মা ছেলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

এবিষয়ে জোন অধিনায়ক লে.কর্নেল হিমেল মিয়া পিএসসি জানান, সমাজের অবহেলিত পাহাড়ী বাঙ্গালী জন সাধারণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লংগদু জোন।তারই ধারাবাহিকতায় সর্বহারা একটি জীবনকে পুনরায় উজ্জীবিত করার সামন্য চেষ্টাটুকু করেছে সেনাবাহিনী। ভবিষ্যতেও এধরণের মানবিক কাজ অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন

এ সম্পর্কিত পোস্ট:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএ এর সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ   গতকাল দিবাগত রাত ১টা হতে আজ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবান জেলার...

সু-কৌশলের রাজনীতি: জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি নেতৃত্ব শূন্যতায়, ভবিষ্যৎ সংসদে বাড়বে বাঙালি বিরোধী ষড়যন্ত্র।

ডেস্ক রিপোর্টঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন জেলা নিয়ে গঠিত এই পাহাড়ি জনপদ শুধু প্রাকৃতিক...

ভোট নিরাপত্তায় রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সভা

ডেস্ক রিপোর্টঃ   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাঙামাটিতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ও...

পাহাড়ে ভোটের রাজনীতি: বাঙালি অনৈক্য কি আঞ্চলিক দলের আধিপত্যের পথ প্রশস্ত করছে?

ডেস্ক রিপোর্টঃ   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সমগ্র দেশে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ, হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণ তুঙ্গে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের...